শুল্ক অনিশ্চয়তা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্ক নিয়ে নতুন আইনি জটিলতা এবং ডলারের দরপতনের প্রভাবে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

গতকাল লেনদেন শুরুর পর থেকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে থাকায় মূল্যবান এ ধাতুর দাম বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। খবর রয়টার্স।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড বা আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ১৫২ ডলার ১১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারির পর এটিই স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম। এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪ ডলার ৮২ সেন্টে উঠেছিল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারে এপ্রিলের সরবরাহের জন্য স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১৭২ ডলার ৮০ সেন্টে পৌঁছেছে।

স্বর্ণের এ দাম বাড়ার পেছনে মূল কারণ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে জানান, ট্রাম্পের আরোপিত ব্যাপক শুল্ক ছিল তার আইনি ক্ষমতার বাইরে। এ রায়ের পর বিশ্ব বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের মান কমে যাওয়ায় বাজারে স্বর্ণের চাহিদা ও দাম উভয়ই বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান জানান, শুল্ক নিয়ে বিভ্রান্তি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতির খবর স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরুদ্ধারে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে আদালতের রায়ের পরও পিছু হটেননি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন, যা বর্তমান আইনে সর্বোচ্চ সীমা। একই সঙ্গে তিনি প্রায় ২০টি দেশের সঙ্গে করা পুরনো বাণিজ্য চুক্তি বহাল রাখার পক্ষে নিজের অনড় অবস্থান জানিয়েছেন। ট্রাম্পের এ অবস্থানে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে স্বর্ণের এ ঊর্ধ্বগতি কতক্ষণ টিকবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয়ও রয়েছে। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে এবং জানুয়ারিতেও একই ধারা বজায় থাকার আভাস পাওয়া গেছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমায় না। স্বর্ণ থেকে যেহেতু সরাসরি কোনো সুদ পাওয়া যায় না, তাই সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বদলে অন্যান্য খাতে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন।

বিনিয়োগকারীরা চলতি সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের বক্তব্যের অপেক্ষায় আছেন। তাদের বক্তব্য থেকে আগামীতে সুদের হার বাড়বে না কমবে, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাও বিনিয়োগকারীদের ওপর প্রভাব ফেলছে।

এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও। রুপার দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৮৬ ডলার ৫৫ সেন্টে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৬৪ ডলার ৬২ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৬৯ ডলার ৪৩ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিকে চান্দ্র নববর্ষের ছুটির কারণে চীনের বাজার গতকাল বন্ধ থাকলেও আজ তা পুনরায় খোলার কথা রয়েছে।

আরও